রুশ বিপ্লবের কাল পর্যায়
লেখক: ড. তাইবুল হাসান
লেনিনের নেতৃত্বে রাশিয়ায় বলশেভিক পার্টি' যে সফল সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব করেছে তা'কোন আকস্মিক ঘটনা নয়। লেনিনের রচনায় স্পষ্ট প্রতিয়মান যে এই বিপ্লবের পশ্চাতে রয়েছে রুণ বিপ্লবী আন্দোলনের সুদীর্ঘ ইতিহাস। বুর্জোয়া কিছু ইতিহাসবিদ সমাজবিজ্ঞানীরা বস্তুনিষ্ঠতার পরিবর্তে রুশ বিপ্লবের ইতিহাসকে বিকৃত করে মূলতঃ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের গভীরতাকে খাট করে দেখার চেষ্টা করেছেন। তারা বলশেভিক বিপ্লবকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মুষ্টিমেয়দের ক্ষমতা দখল বলে অভিহিত করেছেন। আলোচ্য অধ্যায়ে লেনিনের রচনার আলোকে রুশ বিপ্লবী আন্দোলনের ঐতিহাসিক দ্বন্দ্ব এবং শ্রেণী সংগ্রামের তীব্রতার চূড়ান্ত পর্যায়ে রাশিয়ার শ্রমিক কৃষক ও মেহনতী মানুষরা যে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে তার পূর্বকথা আলোচিত হয়েছে।
রাশিয়ার বিপ্লবী আন্দোলনের ইতিহাসকে লেনিন তিনটি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছেন। জেনিনের ‘গেরৎসিনের স্মৃতি' রচনায় এই ভিবিক্তকরণ করা হয়েছে প্রধানতঃ শ্রেণীর নাম অনুসারে। প্রতিটি অধ্যায়েই নিদৃষ্ট শ্রেণীর বিপ্লবীরা তাদের কর্মতৎপড়তা অব্যাহত রেখেছেন। রাশিয়ার ইতিহাসে ডিসেম্বরিস্টদের বিদ্রোহ (ডিসেম্বর, ১৮২৫) থেকেই রুশ বিপ্লবী আন্দোলানের সূচনা। এর পূর্বে রুশ ভূমিদাস ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করেছে শুধু কৃষকরা, আর এই কৃষক বিদ্রোহগুলো ছিল মূলতঃ অসংঘবদ্ধ এবং শতস্ফূর্ত। কৃষকদের তখন কোন সুনিদিষ্ট কর্মসূচী ছিল না। একদিকে কৃষকদের কর্মসূচীর অভাব এবং অপর দিকে ভাল রাজা ও রাজার উদারতার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন ও মোহগ্রস্থতা ছিল তখনকার আন্দোলনের বৈশিষ্ট্য। কিন্তু রাশিয়ায় যে বিপ্লবী আন্দোলন শুরু হয় তা'ছিল প্রধানতঃ বিরাজমান ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ এবং সচেতন লড়াই। লেনিন রাশিয়ার বিপ্লবী আন্দোলনের প্রথম পর্যায়কে অভিহিত করেছেন 'অভিজাতদের' অধ্যায় (১৮২৫-১৮৬১)। এই সময়কার বিপ্লবীরা অভিজাত শ্রেণীর ভাল অংশ এবং সংখ্যার তুলনায় অল্প। তাদের লড়াই ছিল ভূমিদাস ব্যবস্থা ও ভূমিদাস আইনের বিরুদ্ধে। এই বিপ্লবীরা অভিজাত সামন্ত শ্রেণীভুক্ত হলেও সামন্ত সার্থকে তারা রক্ষা করেনি। বিপ্লবীদের বড় দুর্বলতা ছিল যে তারা জনতা থেকে দূরে এবং বিচ্ছিন্ন ছিল।
রুশ বিপ্লবী আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্যায়কে বিপ্লবী-গণতন্ত্রীদের অধ্যায় (১৮৬১-১৮৯৫) বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই অধ্যায়ের বিপ্লবীরা 'নারোদনিক' (রুশ ভাষায় নারোদ শব্দের অর্থ জনতা) নামেও পরিচিত। রুশ বিপ্লবী আন্দোলনের এই পর্যায়ে বিপ্লবীরা জনগণের কাছে যেতে চেষ্টা করে এবং তাদের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকে। নারোদনিকরা ছিল বস্তুতঃ জনগণের জন্য কিন্তু তারা জনগণকে ছাড়াই তাদের বিপ্লবী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। এ, সময়ে ষড়যন্ত্র, সন্ত্রাসমূলক তৎপরতা বিশেষভাবে লক্ষ্যনীয়। রাশিয়ায় গণতন্ত্রী বুদ্ধিজীবীদের দ্বারা পরিচালিত এই বিপ্লবী আন্দোলনের অন্যতম দুর্বলতা ছিল যে তারা রাশিয়ায় পুজিবাদের বিকাশকে যথা-যত গুরুত্ব না দিয়ে কৃষকদেরকেই শোষণ মুক্তির জন্য বিপ্লবী শ্রেণী হিসাবে মনে করতেন। রাশিয়ার পরিবর্তিত সমাজ বিকাশের আঙ্গিকে শ্রমিক শ্রেণীর বিপ্লবী শক্তিকে তারা উপলব্ধি করতে পারেননি। রুশ বিপ্লবী আন্দোলনের সবচাইতে উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় হলো প্রলেতারিয়েতদের অধ্যায় (১৮৯৫ থেকে শুরু)। এই সময়ে মুক্তি ও বিপ্লবী লড়াই এ নেতৃত্ব দেয় রাশিয়ার সর্বহারা শ্রেণী। অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে ১৯১৭ সালের লেনিন ও বলশেভিক পার্টির সফল সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের মাধ্যমে।
আন্দোলনের দীর্ঘ পথ ধরে রাশিয়ার শোষিত জনগণের যে যাত্রা শুরু হয়েছিল তা' ১৮৯৫ সালে লেনিনের নেতৃত্বে মার্কসবাদী গ্রুপ গুলোর একন্দ্রীকরণের প্রক্রিয়ায় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পথে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করে। সমাজ পরিবর্তনের লক্ষ্যে রাশিয়ার শ্রমিক শ্রেণী বিপ্লবী সচেতনায় অগ্রসর হতে থাকে। ১৮৯৫ সালে লেনিনের নেতৃত্বে মার্কসবাদী গ্রুপগুলোর একন্দ্রীকরণে
"লীগ অব স্ট্রাগল ফর দি ইমানসিপেশন অব ওয়াকিং ক্লাশ" গঠিত হয়। এই সংগঠটি শ্রমিক শ্রেণীকে সংঘবদ্ধ করে বিপ্লবী লড়াই'এ যাত্রার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ১৯০৩ সাল (বলশেভিকদের প্রতিষ্ঠা) হতে ১৯১৭ সালের ২৫ শে অক্টোবর পর্যন্ত রাশিয়ায় বলশেভিকরা উত্থান-পতন ঘাতপ্রতিঘাতে এগিয়ে গেছে। কখনো গোপনে, কখনো প্রকাশ্যে নিপিড়ন নির্ঘাতনের মধ্য দিয়ে মূলতঃ চলতে থাকে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের প্রস্তুতিপর্ব।
রাশিয়ার বলশেভিকদের ইতিহাসে প্রধান প্রধান
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
আকর্ষণীয় মূল্য
এক বছর
এক মাস
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে
সাবস্ক্রাইব করেছেন? আপনার একাউন্টে লগইন করুন
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments